নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে মাসব্যাপী জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা মেলা শুরু হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর লালন শাহ মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশ (নাসিব) রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসময় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন নাসিব রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাসিবের জেলা কার্যালয়ের সদস্য গোলাম এহতেশাম, মো. সালাউদ্দিন জিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা, উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীরা।
মেলার আয়োজকেরা জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ১০০টি স্টল বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের উদ্যোক্তারাও এই মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন। মেলায় হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য, মৃৎশিল্প, বস্ত্র, খাদ্যপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রীসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা ধরনের পণ্য স্থান পেয়েছে।
দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পণ্যও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নাসিব রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মাসব্যাপী এই মেলা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ, যেখানে তারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে মেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী মাঠ না থাকায় প্রতিবছর নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। আন্তর্জাতিক মানের একটি স্থায়ী মেলার মাঠ গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প আরও বিকশিত হবে। সেই লক্ষ্যে এই মাঠটি আন্তর্জাতিক মানের মেলার স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি রাজশাহীর অর্থনীতিও লাভবান হবে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন উদ্যোক্তারা যেমন নিজেদের পণ্য পরিচিত করার সুযোগ পান, তেমনি অভিজ্ঞ উদ্যোক্তারা নতুন বাজার ও ক্রেতার সন্ধান পান। অনেক উদ্যোক্তা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি বিক্রির সুযোগ থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।
দর্শনার্থীরা জানান, একই স্থানে দেশি ও বিদেশি নানা ধরনের পণ্য দেখার সুযোগ পাওয়ায় তারা আগ্রহ নিয়ে মেলায় আসছেন। তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসব্যাপী এই মেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা ও বিনোদনমূলক আয়োজন থাকবে। এতে মেলা ঘিরে নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার, উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলা রাজশাহীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।