নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজশাহী থেকে ৩৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে ট্রেন, বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় যাবেন নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর ও জেলা থেকে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাসগুলো আগের দিন ও রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও ঢাকায় যাচ্ছেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহী মহানগর থেকে ৭০টি বাস ছাড়াও মাইক্রোবাস ও কারে যাবেন নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ট্রেনের বগি বুকিং করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে চলে গেছেন। যারা বাকি আছেন তারা আজ অথবা কাল যাবেন। আমাদের ধারণা, রাজশাহী মহানগর থেকে ১৫ থেকে ১৬ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। সেই লক্ষ্যে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, মহানগরের নেতাকর্মীদের জন্য ট্রেনের দুটি বগির টিকিট নেওয়া হয়েছে। এই বগি দুটি অতিরিক্ত দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মহানগরের অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় চলে গেছেন। তারা সেখানে যোগ দেবেন। আশা করছি মহানগরের নেতাকর্মী ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঢাকা যাবে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী যাবেন রাজশাহী-৬ আসন (বাঘা-চারঘাট) থেকে। সেখান থেকে ৪-৫ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। এ ছাড়া জেলার সব উপজেলা মিলিয়ে ২২ থেকে ২৫ হাজার নেতাকর্মী যাবেন। বাস, মাইক্রোবাস ছাড়াও অনেকে ট্রেনে যাবেন।
বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আমাদের উপজেলার প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী ঢাকায় রওনা হয়ে গেছেন। অনেকে মঙ্গলবার রাতে রওয়ানা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে আমাদের উপজেলা থেকে ২০টি বাস ও ৩০টি মাইক্রোবাস নিয়ে রওনা হবো। উপজেলার অনেক নেতা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন। আশা করি আমার বাগমারা উপজেলা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষ সেদিন ঢাকায় উপস্থিত হবে।
এদিকে নেতাকর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে কোনও স্পেশাল ট্রেন না থাকলেও নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতাধীন অন্যান্য স্থান থেকে ২৫ ডিসেম্বর চার জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এগুলো হলো পঞ্চগড়-ঢাকা, চাটমোহর-ঢাকা, যশোর-ঢাকা ও খুলনা-ঢাকা। এছাড়া নাটোর-ঢাকা রুটে স্পেশাল ট্রেনের অনুমোদন চাওয়া হলেও এখনও তা পাওয়া যায়নি।
স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের কারণে স্বল্প দূরত্বের তিনটি কমিউটার ট্রেনের যাত্রা ২৫ ডিসেম্বর সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচলকারী ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ও রহনপুর-রাজশাহীর মধ্যে চলাচলকারী ‘রহনপুর কমিউটার’।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ২৫ ডিসেম্বর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে থেকে চারটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। স্পেশাল ট্রেনগুলো বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিভিন্ন সময় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে। এসব ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৫০৮ জন। আর রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।