নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারায় ভ্যানচালক ওমর ফারুককে চুরির মিথ্যা অপবাদে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজশাহীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়াস)’ ও ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’। এই ঘটনাকে তারা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ ও ‘মনুষ্যত্বের চরম পরাজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রোববার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতারের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার বরাবর পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন ইয়াস-এর সভাপতি, লেখক ও উন্নয়নকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. রবিন শেখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে সংঘটিত ঘটনায় সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনসহ একটি প্রভাবশালী চক্র ফারুককে দুই ঘণ্টাব্যাপী মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার হাত ও পায়ে লোহার পেরেক গেঁথে দেওয়া হয়, রড দিয়ে আঘাত করে শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং এক পর্যায়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। আহত অবস্থায় পানি চাইলে তাকে নদীতে চুবিয়ে নির্যাতন চালানো হয় বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, শত শত মানুষের সামনে এমন নৃশংসতা চললেও পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নীরব। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারুককে হাসপাতালে না নিয়ে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাত দিনের সাজা দেওয়ায় তার মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। তাদের ভাষায়, চিকিৎসার পরিবর্তে সাজা প্রদান নিছক অবহেলা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত বিচারিক হত্যাকাণ্ড।
স্মারকলিপিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা, নিহত ফারুকের এতিম সন্তান ও পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ, সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পরে মো. শামীউল আলীম শাওন ও মো. রবিন শেখ বলেন, ফারুকের পরিবারের কান্না আজ সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে রাজশাহী থেকে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।