1. admin@dainikrajshahirkhobor.com : admin :
রাজশাহীর রাজনীতিতে আলোচিত মুখ রিটন, প্রশাসক পদে সম্ভাবনা উজ্জ্বল - www.dainikrajshahirkhobor.com        
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর রাজনীতিতে আলোচিত মুখ রিটন, প্রশাসক পদে সম্ভাবনা উজ্জ্বল

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আস্থা, সাহস এবং আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাবশালী অবস্থান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মাঠকেন্দ্রিক সক্রিয়তার কারণে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি এক সুপরিচিত এবং আলোচিত মুখ।

রিটনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন কলেজ ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদক (১৯৯৬-১৯৯৭ শিক্ষাবর্ষ) এবং পরে যুগ্ম সম্পাদক (১৯৯৮-১৯৯৯)। এরপর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সংগঠনকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদল (২০০০-২০০২), সাবেক নির্বাচিত জি.এস, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ (২০০১-২০০২), সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল (২০০২-২০১২), সাবেক সভাপতি, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল (২০১২-২০১৬) এবং সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাজশাহী বিভাগ, ২০১৩)। ছাত্রজীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবরাজনীতিতে উত্তরণের পর রিটন দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর যুবদল (২০১৬-২০১৭), সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর যুবদল (২০১৭-২০২৩), আহ্বায়ক, রাজশাহী মহানগর যুবদল (২০২২-২০২৫), সাবেক সহ-সভাপতি, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি (রাজশাহী বিভাগ, ২০২৩) এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক (২০২৫-চলমান দায়িত্ব)।

প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সংগঠন পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্য জোরদারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। টিপায় মুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া, এম ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়া, ২০১৩ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নগরীতে ব্যাপক আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে মহানগরীর প্রতিটি কেন্দ্রে দৃঢ় প্রতিবাদ, ২০২৩ সালে নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে রাজপথে আন্দোলন ও প্রচার, ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন বর্জন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি তিনবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; ১৯৯৫ সালে জন নিরাপত্তা আইন, ২০১১ সালে তৎকালীন ওসি শাহারিয়ার গুলিবিদ্ধ মামলা এবং ২০১৪ সালে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলায়। সাম্প্রতিক সময়ে রিটনের নাম রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

সমর্থকরা মনে করছেন, তার নগর রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্বে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

রিটনের সাংগঠনিক উদ্দেশ্য ও অঙ্গিকার হলো স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা, জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য কাজ করা, দরিদ্রবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং যুব ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া, সাংগঠনিক নীতি-আদর্শ মেনে চলা এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্রদল থেকে যুবদল হয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহীর রাজনীতিতে একটি প্রত্যাশিত ও আলোচিত নাম। নগর রাজনীতিতে তার উপস্থিতি ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তার ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁর নাম ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জোর আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“আমি সবসময় রাজনীতি করেছি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ব্যক্তিগত পদ-পদবী কখনো আমার লক্ষ্য ছিল না। তবে দল এবং জনগণ যদি মনে করে আমি কোনো দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত, তাহলে সেই দায়িত্ব সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তিনি আরও বলেন,“রাজশাহী আমার প্রাণের শহর। এই নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে সবার আগে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দেবো।”

রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ টেনে রিটন বলেন,
“ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি মাঠে থেকেছি। প্রতিকূল সময়েও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা—সবকিছুর মধ্যেও সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, দায়িত্বের বিষয়।”

তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। “রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন চায়, সেবা চায়, স্বচ্ছতা চায়। আমি বিশ্বাস করি—সমন্বিত পরিকল্পনা, সঠিক তদারকি এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নগর পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁকে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,“আমি কৃতজ্ঞ যে অনেকেই আমার ওপর আস্থা রাখছেন। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত দলের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।”

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd