নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক নির্মূলে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার গণকপাড়া গ্রামে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয়।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলার উপপরিচালক জিললুর রহমানের তত্বাবধানে কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ এবং তাৎক্ষণিক সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ডিএনসির চৌকস সদস্যরা।
সারিয়াকান্দি থানাধীন গণকপাড়া গ্রামে আয়োজিত এ কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বাজার এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মাদকের কুফল, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সামাজিক অবক্ষয় এবং আইনি শাস্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ডিএনসি’র এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো হলে তরুণরা মাদকের ফাঁদে জড়ানোর আগে সতর্ক হতে পারবে।
লিফলেট বিতরণে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, মাদকবিরোধী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হলে নিয়মিত প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও স্কুলভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতেও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিএনসি বগুড়া সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান, সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এ কর্মসূচিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সারিয়াকান্দিসহ পুরো বগুড়া জেলাতেই মাদকবিরোধী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
জানতে চাইলে উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন,
“মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তোলে। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকসংক্রান্ত যে কোনো তথ্য গোপনীয়ভাবে প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।