নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের স্কুলপড়ুয়া ছেলে তওসিফ রহমান তৌসিফ হত্যা মামলার আসামি লিমন মিয়াকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
লিমনের হামলায় গুরুতর আহত বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসির শারীরিক অবস্থারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।
এদিকে, রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো লিমন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন তদারকি কর্মকর্তারা। তবে রিমান্ডে লিমন কী তথ্য দিচ্ছেন- সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় লিমনের ভিডিওবয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিচার বিভাগ ও আরএমপির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের চার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত শনিবার আদালত থেকে আরএমপি কমিশনারকে শোকজ করা হয়েছে। কমিশনারকে আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশিদ এ নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, গত শনিবার লিমনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশিদ পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে রাজপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার দিন লিমনের হামলায় গুরুতর আহত বিচারকপত্নী তাসমিন নাহার লুসির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বিচারকপত্নীর শরীরের চারটি স্থানে গুরুতর জখম ছিল। এসব গভীর ক্ষত সারাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সেরে ওঠতে আরও সময় লাগবে। শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হলেই তাকে হাসপাতাল ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ডাবতলা এলাকার বাসায় ঢুকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া তওসিফ রহমান তৌসিফকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে (৪৪) হত্যার চেষ্টা করেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সোলাইমান শহিদের ছেলে লিমন মিয়া (৩৪)। পরদিন ১৪ নভেম্বর বিচারক নিজে বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিন নিহত তৌসিফকে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার রুদ্রবয়রা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।