তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া একসময় টানা তেইশটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, নিজেও তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, আপোষহীন অবস্থান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য তাঁকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে নওহাটা পৌরসভার নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিলন বলেন, বেগম জিয়া দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা সরকারের নানামুখী নির্যাতন, কারাবরণ, অবহেলাজনিত চিকিৎসা–সবকিছুর মুখোমুখি হয়েও দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি। সৃষ্টিকর্তা তাঁকে এখনো জীবিত রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একজন নারীর জন্য সবচেয়ে প্রিয় জায়গা তার নিজের বাসভবন, অথচ সেখান থেকেও তাকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ওয়ান-ইলেভেনের সময় তাঁর দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেলেও কোকো আর ফিরে আসতে পারেননি—সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনো লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরও বলেন, খুনি হাসিনা অতীতেও বহুবার দেশের জনগণকে ফেলে বিদেশ পালিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সতের বছর ধরে বিএনপির বিশ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সতেরশ নেতাকর্মীকে গুম এবং ষাট লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা দিয়ে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট হাসিনা প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং এর দায়ে আন্তর্জাতিক আদালত সম্প্রতি তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে মিলন বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি উল্লেখ করে জামায়াতকে ‘মোনাফেক দল’ আখ্যা দেন এবং জনগণকে এ দল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন প্রতিহিংসামুক্ত করার জন্য বিএনপি কাজ করছে। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিটি গঠন করতে হবে। এসব কমিটি জীবনবাজি রেখে ভোটকেন্দ্র সন্ত্রাসমুক্ত রাখার দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নওহাটা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলমগীর খান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।