নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেসবুক পরিচয়ের সূত্র ধরে ডেকে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, ভয়াবহ নির্যাতন এবং পরিকল্পিতভাবে চোর অপবাদ দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তারেক শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরীর এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি এ ঘটনায় একটি মতিহার থানায় সাধারণ ডাইরি করেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম নগরীর টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৬ নভেম্বর রাত রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি তালাইমারী মোড়ে চা পান করছিলেন। এ সময় দুইজন অপরিচিত যুবক তার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে আলাপ শুরু করে। তারা নিজেদের ছাত্র পরিচয় দিয়ে জানায়, শহরের রোড ডিভাইডারে রঙ করার কাজ করবে। বিষয়টি জনস্বার্থে ভালো কাজ মনে হওয়ায় এবং তাদের হাতে রঙের কৌটা থাকায় তিনি কোনো সন্দেহ করেননি।
কিছুদূর যাওয়ার পর বাজারের দিক থেকে একটি অটোরিকশা এলে ওই যুবকরা জানায়, চালক তাদের পরিচিত। কোনো সন্দেহ না করেই তারেক তাদের সঙ্গে অটোতে ওঠেন। কিন্তু কিছুদূর যেতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যুবকরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র বের করে তার গলায় ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়।
তারেকের অভিযোগ, তাকে একটি বন্ধ ও অন্ধকার কক্ষে নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে লাঠিসোঁটা দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে চোখ বাঁধা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে কাজলা এলাকার কোনো এক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাত পৌনে ৪টার দিকে মিনিটে হঠাৎ ওই দুর্বৃত্তরা টিনের চালে ইট ছুড়ে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুলিশে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও কেউ তা শোনেনি। বরং তাকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় কেউ বা কারা গোপনে তার মারধরের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কটূক্তিমূলক মন্তব্যে তিনি চরম মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারেক। এতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পরে ওই এলাকার কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। স্ত্রী ও মা উপস্থিত হলে এলাকাবাসী বুঝতে পারে যে তিনি কোনো চুরি বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত সামগ্রী পরীক্ষা করেও কোনো আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তার স্ত্রী থেকে লিখিত নিয়ে ভুল স্বীকার করে তাকে মুক্তি দেন।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম তারেক অপহরণকারী চক্র ও সামাজিকভাবে হেয় করার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ভিডিও অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।