নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আর্থিক সাময়িকী গ্লোবাল ফাইন্যান্স–এর ২০২৫ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পেয়েছেন ‘সি’ গ্রেড। অর্থাৎ, তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পারফরম্যান্সকে সংস্থাটি ‘মিশ্র’ বা মাঝারি মানের হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সেন্ট্রাল ব্যাংকার রিপোর্ট কার্ড ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবৃদ্ধি অর্জন, মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা— এই চার সূচকে গড়পড়তা পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একই প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার গভর্নর নন্দলাল উইরাসিংহে পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড, আর ভিয়েতনামের গভর্নর নুয়েন থি হং পেয়েছেন সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ গ্রেড। তুলনায়, বাংলাদেশের সাবেক গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ২০২৩ সালে পেয়েছিলেন ‘ডি’ গ্রেড। ফলে মনসুরের নেতৃত্বে অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও তা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি দায়িত্ব নেন এমন এক সময়ে, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতিকে টালমাটাল করে রেখেছিল।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রিপো রেট ৮.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেন। এতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসে, যা গত এক দশকের গড় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক নিচে।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সহায়তায় তিন বছরের ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে খেলাপি ঋণ কমানো, দেউলিয়া আইন হালনাগাদ করা ও ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি ধীর গতির বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সের বিশ্লেষণে বলা হয়, আহসান এইচ মনসুরের নীতি দিকনির্দেশনা যুক্তিসংগত হলেও বাস্তবায়নে গতি কম। ফলে জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘সি’ গ্রেড মানে হলো নীতিগত দিক সঠিক পথে থাকলেও বাস্তব পরিবর্তনের দৃশ্যমান ফল এখনো পাওয়া যায়নি। মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ অনিয়ম ও ডলারবাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছে।